

বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। আর কারিগরি শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে অসংখ্য পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্নঘোরে— "বাংলাদেশের সেরা পলিটেকনিক কোনটি?"
কোনো একটি নির্দিষ্ট পলিটেকনিককে এককভাবে সেরা বলা কঠিন, কারণ পড়াশোনার মান, ল্যাব সুবিধা, ক্যাম্পাস এবং প্লেসমেন্টের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সাধারণ স্নাতক ডিগ্রির চেয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বড় সুবিধা হলো এর প্র্যাক্টিক্যাল বা ব্যবহারিক শিক্ষা। ৪ বছর মেয়াদি এই কোর্স শেষ করেই একজন শিক্ষার্থী সরাসরি চাকুরির বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। দেশের শিল্পখাত, কনস্ট্রাকশন, আইটি এবং সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (উপ-সহকারী প্রকৌশলী) হিসেবে ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

সরকারি পলিটেকনিকগুলোর মধ্যে পড়াশোনার খরচ অত্যন্ত কম এবং ল্যাব ও অবকাঠামোগত সুবিধা তুলনামূলক অনেক উন্নত। নিচে দেশের সেরা কয়েকটি সরকারি পলিটেকনিকের তালিকা দেওয়া হলো:
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা আসলেই সবার আগে নাম আসে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম পলিটেকনিক।
কেন সেরা: এখানে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে (তেজগাঁও) অবস্থিত হওয়ায় বিভিন্ন শিল্পকারখানার সাথে এর চমৎকার সংযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও জবের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা দেয়।
জনপ্রিয় টেকনোলজি: সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার, আর্কিটেকচার ইত্যাদি।
ঢাকার বাইরে মেধা ও সুনামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসটি তার বিশাল এলাকা এবং চমৎকার অ্যাকাডেমিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।
কেন সেরা: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য লোকাল ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকুরির সুযোগ অনেক বেশি।
জনপ্রিয় টেকনোলজি: সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার এবং এনভায়রনমেন্টাল।
উত্তরবঙ্গের শিক্ষার আলো ছড়াতে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অনন্য ভূমিকা পালন করছে। এটিও ১৯৬২ সালে স্থাপিত হয় এবং প্রতি বছর এখান থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে পাস করে বের হয়।
কেন সেরা: শান্ত ও মনোরম পরিবেশ এবং কঠোর শৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিক পড়াশোনার জন্য এই পলিটেকনিকের সুনাম রয়েছে।
শিল্পনগরী খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম সেরা কারিগরি বিদ্যাপীঠ। শিল্পকারখানার কাছাকাছি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্র্যাক্টিক্যাল কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
অ্যাকাডেমিক ফলাফল এবং ল্যাবরেটরি সুবিধার দিক থেকে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বেশ এগিয়ে রয়েছে। এখানকার কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ল্যাবগুলো বেশ আধুনিক।
ঢাকার বাইরে মেধা ও সুনামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসটি তার বিশাল এলাকা এবং চমৎকার অ্যাকাডেমিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।
কেন সেরা: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য লোকাল ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকুরির সুযোগ অনেক বেশি।
জনপ্রিয় টেকনোলজি: সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার এবং এনভায়রনমেন্টাল।
ঢাকার বাইরে মেধা ও সুনামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসটি তার বিশাল এলাকা এবং চমৎকার অ্যাকাডেমিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।
কেন সেরা: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য লোকাল ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকুরির সুযোগ অনেক বেশি।
জনপ্রিয় টেকনোলজি: সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার এবং এনভায়রনমেন্টাল।
ঢাকার বাইরে মেধা ও সুনামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসটি তার বিশাল এলাকা এবং চমৎকার অ্যাকাডেমিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।
কেন সেরা: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য লোকাল ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকুরির সুযোগ অনেক বেশি।
জনপ্রিয় টেকনোলজি: সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার এবং এনভায়রনমেন্টাল।
বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব টেকনোলজির চাহিদা বেশি—
এই বিভাগগুলোতে পড়াশোনা করলে দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ বেশি পাওয়া যায়।
আপনি যখন নিজের জন্য সেরা পলিটেকনিকটি বেছে নেবেন, তখন কেবল নামের পেছনে না ছুটে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত:
ল্যাব ও ওয়ার্কশপ সুবিধা: কারিগরি শিক্ষার মূল প্রাণ হলো ল্যাব। যে ইনস্টিটিউটে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাব আছে, সেটিই সেরা।
শিক্ষক মণ্ডলী: অভিজ্ঞ এবং ইন্ডাস্ট্রি-জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক আছেন কিনা তা যাচাই করা জরুরি।
ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট ও ইন্টার্নশিপ: পাস করার পর প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ বা জবে কোনো সহায়তা করে কিনা।
যাতায়াত ও আবাসন: নিজের স্থায়ী ঠিকানা থেকে যাতায়াত সুবিধা বা হোস্টেল সুবিধা কেমন, তাও বিবেচনা করা উচিত।
বাংলাদেশে সরকারি পলিটেকনিকের সংখ্যা প্রায় ৪৯টি। অন্যদিকে বেসরকারি পলিটেকনিকের সংখ্যা শত শত।
সরকারি পলিটেকনিক: খরচ অত্যন্ত সীমিত (সেমিস্টার ফি মাত্র কয়েকশত টাকা)। মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ার সুযোগ পায়। সার্টিফিকেট ও সামাজিক মূল্যায়ন বেশি।
বেসরকারি পলিটেকনিক: খরচ তুলনামূলক অনেক বেশি (৮০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে)। তবে কিছু শীর্ষসারির বেসরকারি পলিটেকনিকের (যেমন: ড্যাফোডিল, শ্যামলী, সাইক) ল্যাব সুবিধা এবং ক্যাম্পাস পরিবেশ অত্যন্ত আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের। সরকারি সুযোগ না পেলে ভালো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ নাহিদ হাসান প্রধান
Copyright © 2024 Chirkute Sahitto. Powered by Chirkute Team.