
অবরুদ্ধ নিশীথ বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বইয়ের নাম | অবরুদ্ধ নিশীথ |
| লেখিকা নাম | তেজস্মিতা মর্তুজার |
| মুদ্রিত মূল্য | ১৩২০ টাকা |
| অফার মূল্য | ৯২০ টাকা (৩০%) |
| পৃষ্ঠা | |
| কাভার | হাডকাভার |
| প্রকাশের সময় | এপ্রিল, ২০২৬ |
| প্রকাশনী | অন্যধারা প্রকাশনা |
অবরুদ্ধ নিশীথ বই কিভাবে কম টাকাই সংগ্রহ করবেন
| অতিরিক্ত ৫% ছাড়ে মাত্র ৮৫০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ করুন ফেসবুক পেইজ : Boinen – বইনেন হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার : 01309875358 |

অবরুদ্ধ নিশীথ বইয়ের রিভিউ
ফ্ল্যাপ:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তখন টালমাতাল, অস্থির। সে সময় দিনাজপুর হাবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে এক অঘটন ঘটল। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মাহেজাবিণ আরমিণ অন্তূ সিনিয়রের এগিয়ে দেয়া সিগারেট পায়ে পিষে দিল। সে তখন জানে না, তার সিনিয়র জেলা-ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি। এই ক্ষুদ্র প্রতিবাদ তাকে ক্রমশ এগিয়ে দেয় এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে। পথে সে একটি সমাজ, বাঁধনহারা মানুষের কাফেলা ও একটি রাজনীতি দেখে। যে নীতির সবচেয়ে বড় নীতি হলো, এখানে কোনো নীতি নেই।
অন্তূ আইনজীবী হতে চায়; অন্তূ থেকে অ্যাডভোকেট মাহেজাবিণ হওয়ার পথে তাকে হারাতে হয় সমাজে সম্ভ্রম, ছেড়ে দিতে হয় আব্বুর হাত, এরপর হারানোর এই প্রবাহ থামার নয়। আব্বুকে ছাড়া রাস্তা পার হতে না জানা অন্তূকে একা পেরিয়ে যেতে হয় জীবনের অন্ধ-গলি, প্রভাবশালীদের থাবা। এই পথে কিছুদূর এগিয়ে সে আবিষ্কার করে এক কৃষ্ণগহ্বর। যেখানে আলো, সময়, নীতি সব বিলীন। সেই গহ্বরে প্রবেশ করে সে দেখতে পায় সময়ের এলোমেলো ঝড়–১৯৭১-এর রক্ত, ১৯৭৫-এর মতাদর্শ, ১৯৮৭-এ জন্ম নেয়া এক শিশুর পাপীষ্ঠ হয়ে তার সামনে বসার গল্পে আরও কতক সময়ের অস্থির আবর্তন।
এই উপাখ্যান অন্তূর নয়, কোনো একক চরিত্রের নয়। অসংখ্য চরিত্র ও তাদের প্রত্যেকের সতন্ত্র ধ্বংসপ্রাপ্তির ধারায় তরান্বিত হয়ে ছে একেকটি অবরুদ্ধ নিশীথ। নিশীথের অন্ধকার, রাজনীতি-অবরোধ এবং আইনও এখানকার এক টুকরো ক্ষুধার্ত চরিত্র। অন্তূ সমাজকে একটি সাদা পায়রার খোলা ডানা হিসেবে দেখতে চায়। আইনজীবী হয়ে মজলুমকে বিচার ও জালিমকে দণ্ড দিতে চায়। তবে যখন মজলুম ও জালিম আলাদা-দুজন নয়, সেই একজনের প্রাপ্য কী? বিচার না দণ্ড–এমন বহু প্রশ্ন, পতন-উত্থানের আখ্যান অবরুদ্ধ নিশীথ!
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ১ম
বাস্তব জীবনের মানুষ গুলোর থেকেও এই “গল্প” বিশেষ করে জাভেদ আমিরের একমাত্র সন্তান জয় আমির” এর জন্য আমার মায়া বেশি হয়তো। এইযে এখন এতটুকু লিখতে গিয়েও আমার চোখ থেকে টুপ করে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো এর থেকে বেশি মায়া দেখানো যায় নাকি??? পড়ার সময় কত রাত কেঁদে কাটাইছি সেটা জানে আমার বোন একমাত্র। একদিন তো আম্মু বাবা ও ঘুম থেকে উঠে গেছিলো আমার কান্নায় তখন ছিল গল্পের শেষের দিকের সময়, জয় আমিরের মৃত্যু।!!!
এই অবরুদ্ধ নিশীথ পড়তে গিয়ে যতটা কেঁদেছি হয়তো এতটা আর জীবনে কাদি নি।
বই একজনের খুশি লাগছে আমার কারণ এই জয় আমিরকে আমি নিজের সামনে রাখতে পারবো, আমার ঘরে আমি জাভেদ আমির আর হুমাইরিয়ার একমাত্র সন্তানকে আমার ঘরে তুলবো আমি।🕯️
ঘরওয়ালীর সাথে সংসার না হলো পাপিষ্ঠ পুরুষের, আমি তাকে সারাজীবন আগলে রাখবো মায়া করে।
প্রতিটা কাহিনী এক এক রকম, ভালোলাগাটাও এক এক রকম। জয় আমিরের প্রতি আমার মায়া! ভালোবাসা না।
~ অজান্তা
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ২য়
আমি পড়লাম,এক মেয়ের এক তরফা ভালোবাসার গল্প। এক মেয়ের ঘৃণার মাঝেও অপ্রকাশিত ভালোবাসা গল্প। এক মেয়ে তার ভালোবাসার মানুষ কে পেয়েও ভালো মতো সংসার না হওয়ার গল্প। এক মায়ের তিন সন্তান হারানোর গল্প। এক ছেলের নিজের চোখের সামনে মায়ের ধর্ষণ, বাপের মাংস আলাদা, দাদার মাথা কাটা মুন্ডু দেখার গল্প। এক ছেলে ছোট থেকে নিজের সন্তানের মতো বড় করে তাকে হারিয়ে ফেলার গল্প। সুন্দর হয়েও নিজের স্বামী কে নিয়ে সুখে সংসার না হওয়ার গল্প। জন্মের আগে বাপ হারানোর গল্প। ভূমিষ্ঠ না হওয়ার এক ছেলের সন্তান হারানো গল্প। একজন বিপ্লবীকে দেখার গল্প। এক মেয়ে যে তার জীবনে এক অমায়িক পুরুষ পেয়েছে সেই গল্প।
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ৩য়
জলন্ত হৃদয়, অবরুদ্ধ দ্বার,
সমস্বরে ভেসে আসা আর্তচিৎকার।
মুক্তির পথহারা, পথিকের দল;
পথে মেলে আশার আলো–মরীচিকা ছল।
আলো বহুদূর,
নিশীথের প্রহর, বেদনার সুর।
কেউ মৃত্যুর প্রেমে পড়ে, মৃত্যু করে বরণ,
তারা কেউ বা মৃত্যুঞ্জয়ী, হার মানে মরণ।
পথিকের দল নিরুদ্দেশ,
তাদের কীসের পরোয়া, কেমন শুরু, কী বা তার শেষ!
দিবা-নিশীথ চক্র, পরিণামহীন,
কেঁড়ে নেয় দাম, রক্তের ঋণ।
দ্রোহের আগুণ, আঁধারে সন্ত্রাস,
ওরা কি দাস? কেউ বলে ওঠে এ তো জুলুম-পরিহাস!
এবার তার আওয়াজ পাবে না খুঁজে বিহিত,
দিনের আলো ফুরোলে নামবে অবরুদ্ধ নিশীথ!
– অবরুদ্ধ নিশীথ
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ৪র্থ
জনরা: মূলত রাজনীতি , সন্ত্রাসবাদ বা ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক সহিংসতা এ সবকিছু মিলিয়ে এই উপন্যাসটি রচনা করা হয়।
সতর্কবাতা: এই উপন্যাসটিকে এক অপরিসীম যন্ত্রণাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করেছেন লেখিকা । ( তাই যাদের স্যাড এন্ডিং পচ্ছন্দের নয়, এড়িয়ে চলুন) ❤️
জয় আমির : এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিএ হলো জয় আমির। এই চরিত্রের আগা থেকে গোড়া সম্পূর্ণটা পাপে রঞ্জিত । কিন্তু একটা জিনিস কী জানেন? “পাপীরা কখনোই পাপী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, বাস্তবতা বা জীবনের ভয়ংকর পরিস্থিতিতে তারা পাপী হয়ে উঠে ” জয় আমিরও এই কথাটার বাস্তব সংস্করণ। সে জন্ম নিয়েছিল এক নিষ্পাপ হয়ে কিন্তু খুব ছোট বয়সে সে নিজের পিতার মরনপ্রকিয়া সামনাসামনি দেখেছে। সে স্বাক্ষী হয়েছে নিজ জন্মদায়িনী মায়ের ধ*র্ষনের। এছাড়াও সে অনেক সহিংসতার সম্মুখীন হয় যার ফলে সে নিষ্পাপ থেকে খুনীতে রুপান্তরিত হয়েছে। কিন্ত দুনিয়ার সবচেয়ে তিতা একখানা সত্য কী জানেন?? কেউ কখনো কারোও অতীত ঘেটে দেখে না। তাকে বিচার করা হয়, বর্তমানের কর্মের ওপর ভিওি করে। আর সেই বিচারে, জয় আমির হলো এক জুলুমকারী আর জুলুমকারীদের শেষ গন্তব্য অন্ধকার হয়। জয়ের ক্ষেএেও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি।
মাহজাবিণ আরমিণ অন্ত : আমি মনে করি, এই উপন্যাসটা অন্তকে ঘিরে। অন্ত ছিলো নিখুঁত সুন্দরী , পর্দাশীল, সাহসী, প্রতিবাদী, তীক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন, ন্যায়পরায়ন এবং এক দৃঢ়মনা নারী। আর পাঁচটা বাঙালি মেয়ের মতোই ওর জীবন কাটছিলো। কিন্ত বিপওি ঘটলো সেইদিন, যেদিন অন্ত ওর সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। সেই প্রতিবদের মাশুল হিসেবে ওর ইজ্জতভ্রষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। একে একে ও সব হারিয়ে ফেলে। একটা মেয়ের থাকেই বা কী? ও নিজের সব হারিয়ে ফেলে , প্রথমে বাবা, পরে ভাই, গর্ভস্থ সন্তান, স্বমী এবং পরিশেষে মা। শেষমেশ , ও টিকে থাকে শুধুমাএ ওর সাহসের কারণে।
হামজা পাটোয়ারী : আমি মনে করি এই উপন্যাসের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং মাস্টারমাইন্ড চরিএ হলো হামজা পাটোয়ারী । হামজা সামন্তবাদী মনোভাবের মানুষ। নিজের একচ্ছত্র আধিপত্যতা বিস্তার করা তার নেশা। আর এই কাজে তার সাথি হলো জয় আমির। হামজা না থাকলে জয় বেঁচে থাকতে পারতো নাহ। জয়কে হাজা নিজের সন্তানের মতো লালন করেছে। তারা ছিলো দুই দেহ এক আত্মা। দুই ভাই একসাথে কাধে কাধ মিলিয়ে ডুবে গেছে পাপের জগতে। কিন্ত পাপ তো সর্বগ্রাসী । ” পাপ কখনো নিজের বাপকেও ছাড়ে না ” হামজাকেও ছাড়েনি। জীবনের আখেরি মুহূর্তে একটামাত্র উইলচেয়ার হামজার সঙ্গী হয়েছিলো। বাকিসবকিছু হাত ছাড়া হয়ে গেছে।
তরুনীধি: একপাক্ষিক প্রেম নামক হেমলক পান করা এক নারী হলো তরু। তরুর বাবা ছিলো একজন জুয়ারি। যে কিনা টাকার জন্য নিজের মেয়েকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিতে দুবার ভাবেনি। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে, তরুর ঠাই হয় হামজাদের বাড়িতে। মেয়েরা সবসময় আবেগপ্রবণ হয়, যা প্রকৃতির সাধারণ নিয়ম। তরুও ছিল এক আবেগী বালিকা। যে কিনা নিজের হ্রদয় দিয়ে বসেছিলো, জয় আমির নামক এক পাপীকে। ওর ভালোবাসা জয়ের কোনো খারাপেরই তোয়াক্কা করেনি। কিন্ত হয়তোবা অন্য কথা বলে, জয়ের ভালোবাসার পরিবর্তে ও এক আসমান সমান নির্যাতনের (ধ*ষণের) শিকার হয়ে অবশেষে নিজ প্রান ও হারিয়ে ফেলে।
সৈয়দ মুরসালীন মহান : এক ন্যায়পরায়ণ, বিদ্রোহী চেতনার অধিকারী চরিএ হলো মুরসালীন মহান । তিনি ছিলেন এক আল্লাহ ভীরু বান্দা। এ সবকিছুকে ছাপিয়ে সে একজন আদর্শ ভাই। ওনার বোনকে যখন ধ*র্ষন করা হলো, তখন উনও সেই ধ*র্ষনকারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে কুপিয়ে এর ফয়সালা করেন। এই দৃশ্যটি এখনো আমাকে হ্রদয় নিংড়ানো প্রশান্তি অনুভব করি।
আমজাদ আলী প্রামাণিক : উনি হচ্ছেন অন্তর বাবা। আমি বিশ্বাস করি, বাবা- মা যদি হয় এক স্বচ্ছ আয়না, তাহলে সন্তান হলো তার প্রতিচ্ছবি । অন্তর এই কঠোর হওয়ার, ন্যায়পরায়ন বাননোর কারিগর হচ্ছেন তিনি। কিন্ত শেষ সময়ে, যখন মেয়ের ইজ্জতভ্রষ্ট হয় সেই ভার তিনি সহ্য করতে না পারে, তিনি মৃত্যুবরণ করেন
পলাশ আজগর: এই লোকের নাম অজগর হইলে বেশি ভালো হইতো। এ একটা সাইকোপ্যাথ। বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী। আপনার সুখানুভূতির উৎস কী? টাকা, সাফল্য বা অন্যকিছু। কিন্ত এই পাগলের সুখ কী জানেন?? নারীদের ধ*র্ষন করার সময় তাদের আত্মচিৎকার, মদ বা সকল ধরণের কুৎসিত অপরাধসমূহ। এমন কোনো পাপকাজ এ দুনিয়ায় নাই যা পলাশ আজগর করেনাই।
রিমি : ভাগ্যের এক জঘন্যতম পরিহাসের শিকার হয়েছিলো রিমি। হামজাকে সে ভালোবেসে বিয়ে করে আর পাপের সাথে খুবই আরামসে জীবন অহিতবাহিত হচ্ছিল। কিন্ত অন্তর আগমনে, ওর ভিতরে প্রতিবাদের সোচ্চার হয়।
রুপকথা: টাকা থাকলেই যে সুখ থাকে নাহ, এইটা রুপকথাকে দেখে বুঝা যায়। রুপকথা নামের মতো রুপবতী ছিলো রুপকথা। এই পরীটার বিয়ে হয় পলাশ নামক জা*নোয়ারের সাথে। যার কারণে, দিনের পর দিন ও নিজের স্বামীর কাছে বৈবাহিক ধ*র্ষণের শিকার হয়।
আরও অনের চরিএরা আছে, আমার কাছে উপরের চরিএগুলাই সবচেয়ে বেশি মুখ্য মনে হয়েছে।
রেটিং : ৮/১০
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ৫ম
গল্প এর শুরু ভার্সিটি পড়ুয়া এক মেয়ে কে রেগ দেওয়া কে নিয়ে। প্রথম কিছু পার্ট পড়ে মনে হবে গল্প টা সুন্দর ও সাধারণ। কিন্তু এর পর যত পার্ট পড়া শুরু করবে তখন মনে হবে গল্প টা সুন্দর। তবে সাধারণ নয় বরং অসাধারণ। গল্প এর লেখিকা আপুর লেখার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি, লেখার মাধুর্য, অশ্লীলতা বিহীন, রাজনীতি এর ভিতর অনৈতিক কাজ করা পাপিষ্ট মানুষ দের নির্মম মৃত্যু ,শত মানুষের আহাজারি ।
আরও আছে আপুর গল্প নিয়ে আমি কখনো প্রশংসা করতে পারবোনা কারণ যত প্রশংসা করবো তত কম হয়ে যাবে। আপুর গল্পের প্রতিটি চরিত্র একেবারে জীবন্ত মনে হয়। শুধু আপুর একটা গল্প নয় সব গল্প ই অসাধারণ। অবরুদ্ধ নিশীথ এ সব বাস্তবতার সাথে মিল রেখে করা হয়েছে।এই নিয়ে আমি দুবার অবরুদ্ধ নিশীথ পড়ছি। যখন প্রথম বার পড়লাম তখন যখন অন্তুর এবোর্শন করানো হল জোর করে তখন আমি ভেবেছিলাম সিনেমা এর মতো হয়তো ওই সময় জয় আসবে কিন্তু জয় আসল না কারণ এটা বাস্তবিক গল্প কোন রঙিন কল্পনা না। একেবারে বাস্তবের মতো করে তৈরি করা হয়েছে অবরুদ্ধ নিশীথ।
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ৬ষ্ঠ
আসসালামু আলাইকুম,
আমি এখানে কাওরো পক্ষপাতিত্ব করতে আসেনি।তবে কী জানেন?ছোট থেকে যে যা দেখে শেখে তাই-ই হয়।জয়ের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।এই গল্পেতে তো তাও আরমিণ বলতে পারছে বাস্তবতা তো পুরাই ভিন্ন।।আরমিণের মত কেও হলে ওখানেই শেষ।যারা বলে একদম বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে এটা একদম ভুল তবে আংশিক বাস্তবতার ছায়া এতে আছে।বাস্তবতা আরমিণদের অবস্থা ভয়াবহ হয় অনেক।।অনেক কেইস আছে এমন।।
এরপরে জয় আমিরকে কেও শেখায়নি কিছু এটা একদম ঠিক।এইজন্য বলে মা-বাবা ছাড়া ছেলে-মেয়েরা খুব কম মানুষ হয়। জয় একটা পরিবার ছাড়া বেড়ে উঠেছে।আর সব থেকে বড় কথা জয় যখন মাদরাসাতে এলো তখন দেখলো তার মায়ের হত্যাকারীকে।তখন কাওরো মাথা ঠিক থাকে না।এরপরে মুরসালীনরা যদিও জানতো না তবে উচিত ছিলো জয়ের পরিবার এর হত্যার পুরোপুরি তদন্ত করা।এখানে আগে মুরসালিন এর আত্মীয়রাই সব শুরু করেছে।।।এরপরে প্রতিশোধ।
এরপরে হামজা বড় হয়েছে অভাবে। এখানে অনেকেই বলে হামজা জয়কে নাকি সম্পত্তির জন্য ভালোবেসেছে। এটা ভুল।একটু পড়লে বোঝা যায় হামজা এটা ওর মা মানে শাহানা নাম খেয়াল নেই তাকে বলেছিল যেনো এইসবের লোভে হলেও জয়কে যত্ন করে রাখে।হামজা সেদিন থেকে বুঝলো যেদিন ওর মা বলছিল টাকা কামায় আন।সেদিন থেকেই হামজার টাকার প্রতি নেশা।
এরপরে এলো আরমিণের কথা যদিও সব পরিকল্পনা মাফিক ছিল জয়দের।কিন্তু আরমিণ ওদের ফাঁদে পড়ে যায়। তারপরর এখানে অনেকেই বলে আরমিণ নাকি জয়কে অনেক বার সুযোগ দিয়েছিল কিন্তু আমার মতে জয়কে সে এতটাও সুযোগ দেয়নি।।
আরমিণের সব কথাতেই আমি প্রতিশোধটাই বেশি পেয়েছি।এর পরে জয় যখন আরমিণের বাবা-ভাইকে মারলো তখন ওর এত উপলব্ধি হয়নি কিন্তু সেই একই কাজটা যখন হামজা করলো তখন ঠিকই খারাপ লেগেছিল।এই গল্পে সব থেকে অসহায় ব্যক্তি যেমন জয় ছিল তেমনই পাপীও ছিল।।হামজাও পাপী তবে সে রিমির থেকে বেশ ভালোবাসা পেয়েছে।আর জয় ওরে ভালোবাসার লোক ছিল অনেকেই তবে সময় হারানোর পরে ওর জীবনে কেএ এসেছিল যে ওরে ফেরাতে পারিনি বরং আরমিণের জন্যেই জয় মারা গিয়েছে।এখানে আরমিণ সেদিন যদি প্ল্যান না করতো তাহলে ওর বাচ্চা থাকতো।।আমার এই গল্পের অধিকাংশ চরিত্রকেই প্রতিশোধ পরায়ণ লেগেছে।।।আর হামজা,আরমিণ,জয়,মুরসালিন,পলাশ,পরাগ,রাজন এরা খুনি।কেও-ই নিখুঁত ভালো না।আরমিণ সেদিন না গেলে জয়ের বাচ্চা থাকতো।।তবে হ্যাঁ,,, এই গল্পটা অনেক কিছুর ঈশারা দেয় সেটা অনেকেই বোঝে না।তাহলো প্রতিশোধ পরায়ণ, লোভ টাকার বাহ ক্ষমতার বাহ নারীর এই তিনটির একটাও ভালো না। সব ধ্বংস ডেকে আনে।।পরিণাম কেও সুখী হয় না ভালো থাকে না।এই গল্পে যেমন সব থেকে পাপের ভাগ জয় আমির তেমন অসহায় এই জয় আমির।।।কারণ এই জয় আমির ছাড়া সবাইকে ভালোবাসার মানুষ ছিল।ভুল হলে সেটা ঠিক করার মানুষ ছিল।।।জয় আমির এর ভালোবাসার মানুষ অনেক পরে এসেগেছিলো জীবনে।তরুর কথা বাদ কারণ তরু জয়কে ভালোবাসলেও জয় কিন্তু আরমিণকেই ভালোবাসতো।।।
তবে লেখিকা আপু ভীষণ সুন্দর ভাবে সব চরিত্র উপস্থাপন করেছে।।।ধন্যবাদ তাকে এমন একটি উপন্যাস আমাদের দেওয়ার জন্য।।
এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কারণ আমি চোখের সামনে আমার এক আত্মীয়কে দেখেছি যে মা-বাবা ছাড়া কীভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তবে হামজা চাইলে পারতো।তবে এটা গল্প তাই সব কিছুই বাস্তবসম্মত হবে না।।
নিজের মতামত।।। ভুল হলে মাফ করবেন।।।
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ৭ম
প্রিয় তেজা আপু,
আসসালামু আলাইকুম।আশা করি ভালো আছো।আজকে অবরুদ্ধ নিশীথ নিয়ে হয়ত লাস্ট একটা পোস্ট দিচ্ছি।যদিও আমি তেমন পোস্ট করিনা।আমি যখন অবরুদ্ধ নিশীথ পড়া শুরু করি তখন ৭০ পর্ব চলছিল।কোনোদিনও গল্প নিয়ে তেমন অনুভুতি প্রকাশ করা হয়নি।আজকে প্রথম আর হয়ত শেষবারের মতো কিছু লিখব।আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কারণ লেখাগুলো অনেক অগোছালো হবে।আমি অনুভুতি প্রকাশে বরাবরই কাঁচা এমনকি কি লিখব তার কিছু নমুনা কিছু দিন আগেই কাগজে লিখে রেখেছিলাম কিন্তু কপাল জয় আমির মার্কা হলে যা হয়…সেই কাগজ সযত্নে আমার পড়ার টেবিলে রয়ে গেছে আর আমি দাদু বাড়িতে এসেছি ঈদ করতে।সে যাইহোক,লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো।
“অবরুদ্ধ নিশীথ” শুধু একটা উপাখ্যানের নাম নয় আমার কাছে এটি একটি অনুভুতির নাম।না,জীবনে খুব একটা সাহিত্য পড়া হয়নি আর না আছে সাহিত্য জ্ঞান।তবে যতটুকু পড়েছি তার মধ্যে থেকে খুব কমই মনে ধরেছে যার মধ্যে অবরুদ্ধ নিশীথ অন্যতম।প্লট থেকেও বেশি মুগ্ধ করেছে চরিত্রগুলো,প্রতিটি চরিত্রই অনেক গভীর ছিল।শব্দচয়ন নিয়ে আমার মত অধম আর কি বলবে তবে গল্পের আঞ্চলিকতার দিকটা ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লেগেছে,এটি পড়ার সময় আলাদা একটা ইন্টারেস্ট তৈরি করেছে যেটা কোনসময় বোর করেনি।প্লট নিয়ে তেমন কিছু বলব না বলব চরিত্রগুলো নিয়ে।
প্রথমেই আসি নন আদার দ্যান জয় আমির এর কাছে,মাগার একটা প্রবলেম আছে,করো সম্পর্কে লিখতে গেলে তো প্রথমে তাকে কিছু একটা সম্বোধন করতে হবে যেমন প্রতিবাদী, বিদ্রোহী ইত্যাদি ইত্যাদি কিন্তু একে কি বলব বলুন তো?তাকে কি অদেউ বর্ণনা করা যায় নাকি!ওহ হ্যাঁ যায় “অবর্ণনীয়” সে অবর্ণনীয়।তাকে নিয়ে যতকিছুই বলা যাক না কেন কিছু একটা থেকেই যায় যা বর্ণনা করা যায় না শুধু অনুভব করা যায়।জয় আমির আমার প্রিয় চরিত্র।না,সে উপাখ্যানে আমার প্রিয় ব্যক্তি নয় আর না এমন কেউ যাকে আমি সাপোর্ট করি।তার সব অবর্ণনীয় দিক,মাঝে মাঝে একটু কনফিউসিং গুণাবলী যা মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে,তার রহস্যময় কথা সেসব প্রেক্ষিতে সে আমার প্রিয় চরিত্র যাকে বানাতে আপনাকেও ভাবতে হয়েছে বোধহয়।কিছুটা ওরকম,যখন সিনেমার ভিলেনদেরকে আমরা প্রচণ্ড ঘৃণা করি যে আমরা রিয়েল লাইফে তাদের কথা শুনলে নাক সিটকাই কিন্তু এটার মানে চরিত্রটা তার প্রেক্ষিতে এতটাই পারফেক্ট ছিল।অন্তু একবার বলেছিল “জয় আমির কেমন?কেনো এমন সে?যেটা সবাইকেই ভাবিয়েছে।তাকে ভালবাসি না ঘেন্না করি জানা নেই তবে হ্যাঁ আমি ঘৃণা করি সেই জয় আমিরকে যার পাপ ছিল অসীম,গন্তব্যহীন,যার আগ্রাসন চলেছে নিরীহদের উপর,যার কারনে রাবেয়া স্বামী ও ছেলে,মার্জিয়া স্বামী হারিয়েছে,যে আব্দুল আহাদ ও আরও নিষ্পাপ শিশুদের খুনি,যার কারনে অন্তু করো স্ত্রী হতে পারেনি হারিয়েছে নিজের সম্মান,যে মরিয়মের স্বামী এবং তিন সন্তান না চার সন্তানকে হারিয়েছে বোধহয় কারণ কোনো এক এতিমকে কি সে নিজের সন্তান ভাবেনি?ভেবেছিল বোধহয় যা সেই অধম বোঝেনি।আর আমি সেই জয় আমিরকে ঘৃণা করি যে হুমাইরার নিষ্পাপ ছেলেকে দাফন করেছে হামজার সাথে মিলে।তবে এসবের মাঝে আবার উকি দেয় তার সেই বিভৎস অতীত,বুকের হাহাকার।একে মায়া বা ভালোবাসা বলে কিনা জানিনা তবে কিছু একটা আছে তার উপর।শুধু তার অতীতের জন্য নয়,সে যখন কিছু একটা কারণে লতিফকে সেদিন মারেনি,কবিরকে বলেছিল কেন তার সাথে থেকে নষ্ট করছে,অন্তুকে বলেছিল “এই সমাজের মানুষকে তুমি মানুষ বলো?” যাকগে ঘৃণা ভালোবাসার কথা।আচ্ছা জয় আমিরের জীবনটা মূলত ছিল কিসের জন্য?কি আছে তার জীবনে?কেনো জন্মেছিল সে? জয় আমিরের মুখে নাকি সবসময় হাসি লেগে থাকত এমনকি মৃত্যুর পরেও নাকি সেই চিরায়ত হাসি তার মুখে ছিল।আচ্ছা এই হাসি কিসের?তার জীবনের প্রতি তাচ্ছিল্যের নাকি?হয়ত,হয়ত না।সে একটা গান গেয়েছিল না -“তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়
দুঃখের দহনে করুন রোদনে
তিলে তিলে তার ক্ষয়”।
দেখেছি বোধহয়।জয় আমিরের জীবনই হয়তো।তার মৃত্যুর সময় কেঁদেছিলাম বটে তবে ঠোঁটে হালকা হাসিও ছিল হয়তো তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছিল সেই হাসি!মৃত্যুর পরের কার্যক্রমে আমার অদ্ভুত লাগছিল শুধু ভাবছিলাম,ছ্যহ্ একদম যাচ্ছেনা এসব জয় আমিরের সাথে কাফন,সুরমা,কবর এসব আবার যায় নাকি জয় আমিরের সাথে?অন্তর মতো তার প্রতি আমারও অভিযোগ কম নেই তবে আজ থাক সেসব অভিযোগের কথা।আজ আর কিছু লিখব না।
মাহেজাবিন আরমিন অন্তু…প্রথমেই বলি,অন্তু দ্যা ওম্যান ইউ আর!প্রতিটা ঘরের মেয়ের একেকটা অন্তু হওয়া উচিত।তবে আমি না শুরু থেকে তার মধ্যে নারীত্ব খুঁজতাম আর যখন তার খোঁজ পেলাম তখন আমি বাকরুদ্ধ!একটুও মিথ্যে বলছি না তার নারীত্বে,তার মাতৃত্বে আমি বিস্মিত।অনেকক্ষণ নিয়েছিলাম পুরো ঘটনাটা প্রোসেস করতে,গায়ে কাঁটা দিয়েছিল সে ঘটনা।আমার পুরো গল্পে সবচেয়ে কৌতূহলের বিষয় কোনটা জানেন?সেটা অন্তুকে নিয়ে,আমি অনেক ভাবি,আচ্ছা অন্তরা কেমন যখন তারা কাউকে ভালবাসে,কেমন তারা একজন স্ত্রী হিসেবে,কেমন তাদের আচরণ তাদের ভালোবাসার মানুষের আপেক্ষিকতায়?হয়তো কিছুটা রাস্তা পার হওয়ার সময় আমজাদ সাহেবের আঙ্গুলটা চেপে ধরার মতো!কিন্তু তার আসামির বদৌলতে সেটা আর দেখা হলো না।মাঝে মাঝে দ্বিধায় পড়ি যে অন্তর মতো সবার হওয়া উচিত কিনা কারণ অন্তর ব্যক্তিত্ব সবার হওয়া উচিত কিন্তু তার অসহায়ত্ব,তার ভাগ্য এসব?সে যাইহোক এটুকুই বলব অন্তরা কখনও থেমে থাকে না তারা বহমান নদীর ন্যায়,অন্তরা অনন্য,অসাধারণ।
সৈয়দ মুরসালীন মহান।তাকে নিয়ে আমার মত কেউ কি বলতে পারে?সে এসেছিল একজোড়া বিদ্রোহী চোখ নিয়ে যেখানে ছিল অন্যায় থেকে মুক্ত হওয়ার,সবাইকে মুক্ত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।মুরসালীনদের ব্যাখ্যা করার শব্দ আমার জানা নেই।সে তার মাকে চিঠিতে বলেছিল,মুরসালিনদের মৃত্যু নেই,লাখোদের মাঝে তাকে খুঁজে নিতে।আমিও তাদের মধ্যে একজন হলাম যারা পত্রিকায়,টিভিতে আন্দোলনে মুরসালীনদের খোঁজে।পেয়েছি কিনা জানিনা তবে তাকে খোজা অব্যাহত থাকবে।আজ আর কিছু লিখব না আজ শুধু ভাববো মুরসালীনরা কি শুধু হামজা,জয়ের শিকারই হবে নাকি কোনোকালে কোনো এক মুরসালীন এর আশা পূর্ণ হবে।
তরুনিধিকে নিয়ে একটু বলতে চাই।প্রথমত বলব নামটার প্রেমে পড়ে গেছি “তরুনিধি” ভীষণ সুন্দর নাম।তাকে নিয়ে এটুকুই বলব সি’জ স্পেশাল।না জয় আমিরের পাপিষ্ঠ নারী হওয়ার জন্য নয় আমি মুগ্ধ তার সরলতায়।
রিমির প্রতি আমার সম্মান অন্যরকম।আমাদের সমাজে বেশির ভাগ নারীদের প্রতিনিধি রিমি।
আমজাদ সাহেবকে নিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভাষা পাচ্ছি না।এটুকুই বলব তিনি একজন আদর্শ বাবা,স্বামী,ব্যক্তি।
হামজা উপাখ্যানের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তাও তাকে নিয়ে কিছু বলব না।তারা ভয়ংকর বাস্তবে এবং অবরুদ্ধ নিশীথ এ।পলাশকে নিয়েও কিছু বলব না তার কথা ভাবলে রক্ত বিদ্রোহ করে ওঠে।
এখন একটু বলি আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত যুগলকে নিয়ে।জয় – অন্তু এমন এক যুগল যাদের মধ্যে ছিলনা এক হওয়ার কোনো পোটেনশন তবুও আমি সেই পোটেনশন খুঁজেছি তাদের প্রতিটি সংলাপে। পাবোনা জেনেও।প্রশ্ন জগতো তারা কি একমুহুর্তের জন্যও এক হতে পারে না? উত্তর আসতো, “না কোনো যুক্তি নেই” আবার মনে হতো কি হবে এত যুক্তি দিয়ে,যুক্তি একটু ভঙ্গ হলে কি হয়? এসব ভাবতে ভাবতে নিজেকে পাগল মনে হতো।
উপাখ্যানের প্রতিটি চরিত্র আমাকে এতটা ভাবিয়েছে যা প্রকাশ করার মত না।রূপকথা,পরাগ(আমাদের ফ্রগ),মুমতাহিনা,মরিয়ম,কবির,তুলি এবং সবাইকে নিয়ে অনেক ভেবেছি,ভেবেছি তাদের পরিণতি নিয়ে।
গল্প নিয়ে মাঝে মাঝে মেন্টালি প্রেসার ফীল হতো।মনে হতো আমি আর পারবো না,আমার তেজা আপুকে দরকার।শুধু মনে হতো সে কি তার পৈতৃক নিবাসে আছে,কোথায় সেটা আমিতো তার খুব কাছেই আছি, আমার এক্ষুনি একবার গিয়ে তার সাথে দেখা করা দরকার,সবটা শোনার দরকার আমি আর নিতে পারছি না।
আমার তোমার প্রতি অভিযোগও আছে তেজা আপু।তুমি এত পঁচা কেনো,এত কেনো ভাবাও, চরিত্র এভাবে কেনো বানাও যে তাদের না ভালবাসা যায় না ঘৃণা করা যায়।এত প্যারা কেনো দাউ?তুমি যেভাবে আমার মন – মস্তিষ্কে নিজের উপাখ্যানের মাধ্যেমে আগ্রাসন চালিয়েছ মাঝে মাঝে মনে হয় জয়ের মতো বুকে হাত দিয়ে বলি –
“ঠুকছো ডিয়ার,উফফ পেইন!”
চরিত্রগুলোর পরিণতি নিয়ে আর কি বলব!কজ পলিসি ইস ডেড হেয়ার।ভালো খারাপ নির্বিশেষে সবাই নিঃস্ব।প্রতিটি চরিত্রের আশা,আকাঙ্ক্ষা,চাওয়া,পাওয়া,পরিস্থিতি,পরিণতি সব ভেবে আমার গানের কিছু লাইন মনে পড়ে –
“Ye jism hain to kya
Ye rooh Ka libas hain
Ye dard hain to kya
Ye isqe ki talash hain”
Specially this line-
“Fanah Kiya mujhe ye chahne ki aas ne”
এই গানটা শোনার সময় অবরুদ্ধ নিশীথ এর কথা মনে পড়ে।এই গানটা যেনো গান নয় প্রতিটি চরিত্রের রুহ এর আর্তনাদ!
আর কিছু লিখব না।বলার তো আরও অনেক ছিল কিন্তু এত লেখা যাচ্ছে না।আপু তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের এমন একটি উপাখ্যান উপহার দেয়ার জন্য।এই জার্নিটা পুরো রোলারকোস্টারের মতো ছিল।সবকিছু অনেক মিস করবো।তুমি এগিয়ে যাও।এখন আপাতত বড় একটা লিভ নিবো।সামনে hsc এক্সাম। দোয়া করো আমার জন্য।তোমার জন্যও দোয়া রইলো।কোনো একদিন আবারো ফিরে আসবো এই শাণিত আখ্যানে। ভালোবাসা নিও।আরেকটা কথা কোনো দিন যদি পাবনার কোনো এক গলিতে দেখা হয় খারাপ হবে না তবে না হলেও সমস্যা নেই যতটুকু স্মৃতি আছে তা কাউকে মনে রাখার জন্য যথেষ্ট।ভালোবাসা নিও।
আর সম্মানিত গ্রুপের অসম্মানিত গ্রূপবাসী সবাইকেই অনেক মনে পড়বে।সবাই ভালো থাকবেন।তেজা আপুকে আর বই আনার কথা বললাম না তার আবার জ্বর আসবে তবে তেজাবাসী লেগে থাকো।অবশেষে শেষ হলো অবরুদ্ধ নিশীথ!আসলেও কি শেষ হলো?না, অবরুদ্ধ নিশীথ এর শেষ নেই।হয়ত আমাদের আশেপাশেই প্রতিটা রাত করো করো জন্য একেকটা “অবরুদ্ধ নিশীথ”!
অবরুদ্ধ নিশীথ বই রিভিউ ৮ম
প্রথম যখন পড়তে আসলাম,শুরুতে কিছুই বুঝি নি। ভেবেছিলাম হয়তো স্যাড এন্ডিং হবে। কিন্তু পড়তে পড়তে বুঝলাম,এতো সুন্দর স্নিগ্ধ রোমান্টিক একটা গল্প। হাসি-হাসি সব কিছু। কোনো জটিল কিছুই নাই। জয় অন্তূর মতো কাপল হওয়া কাপল হওয়া সবারই স্বপ্ন। জয়..! আসলেই একজন ভালো স্বামী। হামজার কথা কি আর বলবো,ওর মতো রোমান্টিক আমি কাউকে পাই নি৷ জয়ের পারিবারিক শিক্ষার কথা কি আর বলবো। তার নিজের বউকে সিনারি দেখায় না। এটাই তো পারিবারিক শিক্ষা। হামজা.! ভাইয়ের বাচ্চা আসলে তাকে কম ভালোবাসবে বলে তার বাচ্চা কেই মে’রে ফেললো। এত্তো সুন্দর পারিবারিক শিক্ষা। আর অন্তু? স্বামী বেশি ভালোবাসে বলে স্বামী কেই পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিলো। এত্তো সুন্দর এদের পারিবারিক শিক্ষা। আমার মুখ থেকে হাসি সরে নি গোটা উপন্যাস পড়ার সময়। এর চেয়ে ফানি আর সুন্দর কিছু হয়না। সবাই পড়তে পারেন। মজা মজা গল্প।




