
জননী
আতিয়া মাহজাবিন
উৎসর্গঃ আমার আম্মাজান
যেখানে সৃষ্টি থমকে দাঁড়ায় অবাক বিস্ময়ে,
যেখানে মমতা কথা বলে ওঠে পরম আশ্রয়ে;
সেখানে তুমিই বিরাজ করো, হে মোর জন্মদাত্রী,
তুমিই আমার তপ্ত রোদে শীতল জোছনা রাত্রী।
তোমার চরণে লুটিয়ে পড়ে নিখিল বিশ্বচরাচর,
তুমি আছো বলেই গড়ে ওঠে সুখের খাঁচায় ঘর।
সংসার এক যূপকাষ্ঠ, তুমি স্বেচ্ছায় দিলে বলি,
তোমার হাসির আলোতে আমি আলোকবর্তিকা জ্বালি।
সবার আগে জাগো তুমি, ঘুমাও সবার শেষে,
ক্লান্তি তোমার মুখেতে লুকায় ঐ স্নিগ্ধ হাসির বেশে।
উনুনের ধোঁয়া, ঘামে ভেজা দেহ, হাতের কড়াপড়া—
আমাদের সুখে তোমার জীবন দুুঃখের তিলে গড়া।
নিজের পাতের মাছের মুড়োটি তুলে দিয়েছো নির্দ্বিধায়,
বলেছ হাসিমুখে, “ক্ষুধা নেই আজ,” চরম অবলীলায়।
আমার জ্বরের তপ্ত ললাটে তোমার করতল যেন হিম,
ভয়ের রাতে আগলে রেখেছো ভেঙেছ দুঃস্বপ্ন অসীম।
শৈশব থেকে কৈশোর অবধি যে পথে হেঁটেছি আমি,
পিছলে পড়ার আগে ধরেছ— তুমিই সবচেয়ে দামী।
দুনিয়া যখন মুখ ফিরিয়ে নেয়, তুমি তখনো সাথে,
আস্থা রাখো অটল বিশ্বাসে, হাত রেখে মোর হাতে।
আমার চোখের সামান্য জল তোমার বুকে যে বিঁধে,
নিজের তৃষ্ণা ভুলে মেটাও তুমি আমার মনের খিদে।
কত শখ কত আহ্লাদ তোমার ধুলোয় মিশেছে জানি,
পুরনো পোশাকেই কাটিয়ে দিলে কত যে বছরখানি।
আমাদের নতুন জামার তরে নিজের সাধ করেছো ত্যাগ,
অভাবের দিনেও তোমার মমতা হারায়নি এক দাগ।
সংসারের খুঁটি আঁকড়ে ধরেছ তিলে তিলে ক্ষয় হয়ে,
বিনিময়ে কিছু চাওনি তো কভু, নিঃস্বার্থ প্রেম বয়ে।
তোমার চোখের গভীর কোটরে যত লুকানো হাহাকার,
সেগুলোই আজ হয়েছে আমার উপলব্ধির অলংকার।
তোমার ঋণ শোধ করার সাধ্য কার আছে এই ধরায়?
স্রষ্টা নিজেই শান্তি রেখেছেন তোমার ও দুই পায়।
তুমিহীন এই জগত আমার ধূ ধূ মরুভূমি সম,
তুমিই আমার শ্রেষ্ঠ তীর্থ, মাগো তুমি প্রিয়তম।
তোমার মমতা অক্ষয় থাকুক মোর চেতনার ঘরে,
প্রণতি জানাই শত কোটি বার হৃদয়ের অন্তরে।




