
শীত রাত্রির জবানবন্দি
আতিয়া মাহজাবিন
এক কনকনে শীতের রাতে যখন
তীব্র শীতল বায়ু দোলা দিয়ে যাচ্ছিল সব জনপদকে,
যখন পেঁজা পেঁজা কুয়াশারা চালাচ্ছিল সায়াত্বশাসন,
যে রাতে গরম বিছানা ছাড়া লোকে নিজ অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারে না,
আজকের গল্পটা সেই আগ্রাসী শীতের রাতের।
গা কাঁপানো অস্তিত্ব বিনাশী সেই শীতের রাতেই
আমি দেখেছি উত্তাল রাজপথ,
দেখেছি একদল মানুষকে যাদের পদভারে
তৈরি হয়েছিল বিবেকের রথ।
সেই পৌষের রাতে আমি দেখেছি স্লোগানের উত্তাপ,
দেখেছি বিচারের ক্ষণ গোনা লোকগুলোর দৃষ্টির স্ফূলিঙ্গ!
করছি সেই শীতের রাতেই গল্প যে রাতে শীতের প্রকোপে
জমানো চায়ের টংগুলোও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কম্পনে।
সেই শীতের রাতেই ঐ অদ্ভুত লোকগুলো!
ঐ অদ্ভুত লোকগুলোকে দেখেছি বিচার চাইতে,
দেখেছি জেদের বশে স্লোগান মুখর নির্ঘুম রাত কাটাতে।
হাঁড় কাঁপানো সেই শীতের রাতে ছেলেমেয়েগুলোর অমন পাগলামিতেই বোধ হয়
প্রবীনেরা ওদের নাম দিয়েছিলেন- উন্মাদ !
নয়তো এমন অবুঝপনা পাগলামি কে করে, বলুন?
ভাই হত্যার বিচার চাইতে কোন বোকা করে এমন পাগলামি?
তাই তো অনেকে হেসে বলেওছিল, যত সব মাতলামি!
সেই শীতের রাতেই আমি আরো এক দলকে দেখেছি।
দেখেছি উষ্ণতার চাদরে গা ডুবিয়ে ঘুমোতে,
দেখেছি ঐ সব উন্মাদের কর্মকাণ্ডে ভ্রু কুচকাতে,
দেখেছি কফির উষ্ণ ধোঁয়াতে বিরক্তির রশি আটকাতে।
সেই তীব্র শীতের রাতে আমি তাদের দেখেছি,
নিরাপদ সুরক্ষিত ভিলাগুলোতে নিশ্চিন্তের ঘুম দিতে।
ঐ রাতেই আমি খেয়াল করি প্রশান্তির সেই ঘুমের দূর্ভেদ্য রহস্য!
দেখি তাদের নরম তুলতুলে বিছানাটা শহীদের রক্তে তৈয়ার,
দেখি চুমুক দেওয়া সেই কফির কাপে লেগে থাকা তীব্র বিষ!
দেখি হিটার রুমের উষ্ণতার রহস্য আসলে জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ!
সেই শীতের রাতেই আমি বুঝেছি,
শুহাদার রক্ত, গাদ্দারির বিষ আর দীর্ঘশ্বাস-
এগুলোই হয় ক্ষমতার গদির উষ্ণ উপাদান।
তাই ওসব কেদারায় আসন পেলেই বুঝি
ঐসকল উন্মাদনা বোঝা যায় না!
বোঝা যায় না রক্তের সম্পর্কহীনতার সম্পর্ক,
কিংবা সেই সম্পর্কের সমীকরণ!
সেই রাতেই আমি দেখেছি বুদ্ধিজীবীদের সরব হতে,
বোধ হয় ইন্টেরিম কে সুশীলতায় আখ্যায়িত করতে!
পৌষের হাঁড় কাঁপানো সেই শীতের রাতেই আমি দেখেছি,
ক্ষমতার চেয়ারে আসন গাড়া কিছু লোকের গাদ্দারির সুশীলতা,
আর শুহাদার খুনে রঞ্জিত রাজপথে কিছু লোকের সীমানা পেড়োনো উন্মাদনা!
সেই শীতের তীব্র প্রকোপ রাতে আমি দেখেছি,
উন্মাদ আর সুশীলের সঙ্গার মুখোশ খেলা,
বলি হয় যেথায় উন্মাদেরা, সুশীলেরা শুধু ভেলা !




