
প্রতিক্ষিত বসন্ত
আতিয়া মাহজাবিন
শহীদের ওই শান্ত কবরে কুয়াশা জমেছে গাঢ়,
গাঁদা আর লাল পুষ্পের ঘ্রাণে বিলাপ বেড়েছে আরও।
বিচারের বাণী গুমরে কাঁদছে বিচারহীনতার জালে,
অপরাধবোধের গ্লানি মাখে আজ জনতা সকল কালে।
সেই বিষাদেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে অগ্নিকাণ্ড,
অগ্নিস্ফূলঙ্গ ছিঁড়ে নিতে চায় অন্যায়ের ব্রহ্মাণ্ড!
বজ্রকণ্ঠে গর্জে উঠেছে শোষিত প্রাণের দাবি,
‘বিচার চাইই!’ নইলে মিলবে না মুক্তির কোনো চাবি।
ইন্টেরিম! শোনো তবে এই দগ্ধ মনের ডাক,
ইনসাফের ওই মশাল জ্বালো, তিমির ঘুচে যাক।
সাবধান থেকো, হঠকারিতায় ঢেলো না আগুনে ঘি,
শহীদের খুনে লেখা ইতিহাস জানে সে সত্য কী!
শহীদ হাদির শুহাদাহর ঘ্রাণ আজও মাটির রন্ধ্রে মেশা,
আসমান জুড়ে রাজত্ব করে তার ঐ ত্যাগের রক্তিম নেশা।
রক্তের স্রোত মাড়িয়ে যারা আজ খুঁজবে গাদ্দারি,
হকদারেরা কি ছাড়বে তাদের? হবে যে চরম আড়ি।
বসন্ত আসুক! তবে তা আসুক ন্যায়ের পুষ্প নিয়ে,
ভাই হত্যার ঋণ শোধ হোক চরম বিচার দিয়ে।
রক্তিম সেই গুলমোহরের পাপড়ি যেমন ঝরে,
ন্যায়বিচার যেন বাংলা মায়ের উঠোনটি পূর্ণ করে।




