বৃষ্টি নিয়ে কবিতা

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা: মেঘ-বৃষ্টিতে ভালোবাসা ও অনুভূতির ২০টি কবিতা

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা

 

 

বৃষ্টি
শৈলেন্দ্র নাথ সরকার

 

বৃষ্টি পড়ে সকাল দুপুর
রুম ঝুমা-ঝুম ঝুম,
নুপুর তালে যেন দোলে
তাই আসে না ঘুম ।

ল্যাংটা পুটো সকল ছেলে
মিলল তাই দলে দলে ,
বৃষ্টির তালে নাচছে তারা
হয়ে সবাই আত্মহারা ।

নাচছে আরো ডাকছে ওরা
আয় গো তোরা আয়,
ভিজবি যদি জলে তোরা
কি যে মজা হয়!

বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়ায়
আম পড়ল গাছের তলায়,
দৌড় দিল সব আম কুড়াতে
নিল সবাই হাতে হাতে ।

খাচ্ছে আম করে মজা
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে,
দৌড় দিল কেউ বলে এবার
ডাকছে আমার ম’যে ।

 

 

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
দিগন্ত কুমার দাস

 

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর টুপ,
খোকা বাবু পিছলে পড়ে ধূপ!

পেঁচা হেসে লুটোপুটি,
কাকাতুয়া দোলায় ঝুঁটি
তখন যদি দেখতে খোকার রূপ!

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর টুপ,
ব্যাঙ লাফালো ঝপাং ঝপাং ঝুপ,

উধাও খোকার কান্নাকাটি,
পেঁচাকে এক মারল চাঁটি!
কাকাতুয়া জলে দিল ডুব!

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর টুপ,
নালার জলে মাছ করে গুব গুব,

বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে,
ঝম- ঝমা- ঝম গানের তালে,
ঘুমের ঘোরে খোকা হলো চুপ।

 

 

বৃষ্টির জলে ভিজে
রফিকুল নাজিম

 

বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে
বৃষ্টি পড়ে গাছের ডালে
টুপুরটাপুর টুপ,
বৃষ্টির জলে ভিজবে বলে
বিড়াল পায়ে হেঁটে চলে
দুষ্টু খোকাও চুপ।

মায়ের চোখকে দিয়ে ফাঁকি
যাচ্ছে খোকা মুখটা ঢাকি
আহা! বুনো ঝড়।
ঈশান কোণে মেঘ জমেছে
আম কুড়ানোর ধুম পড়েছে
শেষে এলো জ্বর।

  • পলাশ, নরসিংদী।

 

Bengali rain poem ; বৃষ্টি নিয়ে কবিতা

 

বর্ষাবরণে
দেব নির্মল

 

মেঘ জমছে মেঘের ফাঁকে
আকাশ হচ্ছে কালো
গুরুম গুরুম শব্দ ডেকে
কমছে দিনের আলো

দিচ্ছে হাওয়া এলোমেলো
ঝড় উঠলো জোরে
ঝাপটা মেরে পাখিগুলো
ফিরছে আপন নীড়ে

আরো পড়ুনঃ  কবিতা ত্যাগের অর্ঘ্য, কলমে মাহজাবীন তাসনীম রুহী

বাদলা মেঘে হচ্ছে শুরু
টাপুর টুপুর বৃষ্টি
নাইবে সকল গুল্ম তরু
সৃজন হবে সৃষ্টি

ঘাসের ফাঁকে গাইবে ব্যাঙ
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ছন্দে
গোয়াল ঘরে ছড়িয়ে ঠ্যাং
ডাকবে হাম্বা শব্দে

ভিজবে মাটি চাষের মাঠে
আসবে সবুজ প্রাণ
পড়বে সোনা সহজ পাঠে
“নদেয় এলো বান”

 

বৃষ্টি
রেজাউল করিম রোমেল

গুরুম গুরুম মেঘ ডাকছে
ব্যাঙ ডাকছে জলে,
তাই না দেখে নাচছে খুকি
এই বর্ষাকালে।

ঝর-ঝর-ঝর বৃষ্টি নামে
ঝর-ঝর-ঝর বৃষ্টি,
ঝন-ঝন-ঝন টিনের চালে
সুর ছন্দের সৃষ্টি।

খোকা খুকি মজা করে
এই শব্দ শুনে,
পশু পাখি ঘুমায়নি আজ
ঐ দেখা যায় বনে।

 

 

বর্ষার আনন্দ
কবি ফটিক ঘোষ

 

আষাঢ় শ্রাবণ বর্ষাকালে অঝোর ধারায় বৃষ্টি,
নদী নালা ভরা জল
খালে বিলে শতদল
গাছে ধরে কত ফল
নতুন জলের পরশ পেয়ে নেচে উঠে সৃষ্টি ।

চারিদিকে সৃজন চলে প্রকৃতি যে হাসে,
জলে সিক্ত ফাটা মাঠ
সবজি ফলে ভরা হাট
জলে থৈ থৈ নদীর ঘাট
সবুজ শ্যামল দেশটি আমার রূপের বনে ভাসে ।

চাষীর ঘরে খুশির ঝলক ভরবে ধানের গোলা,
মনের সুখে করবে চাষ
মিটবে এবার সবার আশ
সুখে কাটবে বারো মাস
বর্ষা নিয়ে এলো ঘরে হাসি খুশির দোলা ।

সোনালী ধান আসবে ঘরে কাটবে দুখের ছায়া,
শোধ হবে যে আগের ঋণ
আনন্দেতে বাজবে বীণ
দেখবে সবাই শুভদিন
গাঁয়ের চাষীর কোমল মনে তাইতো বর্ষার মায়া ।

 

 

বৃষ্টি ঝরার গান ( ছড়া )
প্রদীপ কুমার সামন্ত

 

ঝুমুর ঝুমুর নূপুর বাজায়
বৃষ্টিরাণী স্বপ্ন সাজায়
ভরা আষাঢ় শ্রাবণে
মেঘ গুড় গুড় আকাশ ডাকে
বিজলী হানে মেঘের ফাঁকে
দুর্যোগ বরিষণে ।

কুন্দ যুথীর ফুলের মেলায়
অলির নাচন প্রাণের খেলায়
বরষার এই দিনে
ফুলের সুবাস বুকে ধরে
একতার এই গানটি ধরে
বন্ধুর এলেন চিনে ।

আরো পড়ুনঃ  আলোর পথিক কলমে শারমিন আক্তার

পদ্ম পাতায় জল টলমল
ভ্রমর আঁখি মন চঞ্চল
ফৌতি বাতাস বহে চারিদিকে
রামধনুর রঙের শোভা
পরিবেশ আজ মনোলোভা
বৃষ্টি ঝরা হয় একটু ফিকে ।

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা; মেঘ বৃষ্টি কবিতা

 

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা ; হঠাৎ বৃষ্টি
বিকাশ চক্রবর্তী

 

তপ্ত গ্রীষ্মে অপরাহ্ণেতে
হঠাৎ নামল বৃষ্টি,
স্বস্তি মিলেছে জীবকুল মাঝে
রক্ষা পেয়েছে সৃষ্টি৷
ঝিরিঝিরি সুরে শুরু হল তাই
ঝমঝম রবে শেষ,
গলদঘর্ম তাপিত দুপুরে
কেটে গেল যত ক্লেশ |
বৃষ্টির সুরে আমিও মেতেছি
হরষিত, গেছি ভিজে-
শীতল শরীরে পুলক জাগিছে
বর্ণনা করি কি যে ?
সলিল ধারাতে সিক্ত এ মাটি
প্রানেতে খুশির রেশ,
বৃষ্টির সুরে মাতোয়ারা প্রাণ
সিক্ত এ তনু – কেশ |
সবুজে লেগেছে বৃষ্টির ছোঁয়া
ফিরে পেল নবপ্রাণ ,
দিকে দিকে জাগে কলকল্লোল
সব বিধাতার দান ৷৷

 

 

 

বৃষ্টি নিয়ে কবিতা ; শ্রাবণ মাসে
ভুবন সরকার

 

সকাল বেলায় আঁধার ঘনায় মোষলধারায় বৃষ্টি
বর্ষাকালের মধুর আমেজ ভিজায় চোখের দৃষ্টি ।
বৃষ্টি ভিজে কদম শাখায় মৌমাছিরা দলে
ফুলের গন্ধে মাতাল বাতাস ঝাপায় কদম গলে।

জলভরা ওই ধানের মাঠে বসছে বকের মেলা
কলার ভেলা ভাসায় জলে খেলছে কিশোর খেলা ।
গোয়াল ঘরে ডাকছে গরু হাম্বা হাম্বা রবে
নতুন জলে ধরছে যে মাছ জাল ফেলে আজ সবে।

চাষের কাজে ব্যস্ত চাষী মাথলা বেঁধে মাথায়,
জানলা ধারে খাটে খুকি আঁকছে ছবি খাতায়।
রান্না ঘরের প্রান্ত থেকে আসছে সুবাস ভেসে
চাল ডালেতে হচ্ছে খাসা বলছে খুকি হেসে।

জলে থৈথৈ চারিপাশে বৃষ্টি ভেজা পথে
নেই তো কোনো পথিক সেথায় ফিরছে শহর হতে।
সবুজ সবুজ গাছের পাতা ধূয়ায় বৃষ্টি জলে
দুকুল ছাপায় মরা নদীর শ্রাবন মাসের ঢলে।

ঝিঁঝিঁর ডাকে সন্ধ্যা ঘনায় গাঁয়ের তুলসী তলায়
ধূপের গন্ধে প্রদীপ জ্বেলে দেয় যে উলু গলায় ।
অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝড়ে ডাকছে পেঁচা দূরে
বৃষ্টিমুখর আঁধার রাতে শেয়াল ডাকে সুরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *